অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে
আসসালামু আলাইকুম। বিদ্যাঘর ডটকম-এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগতম। আমাদের আজকের এই ভিডিওতে আমরা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কালজয়ী একটি পঙক্তি “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে” এই ভাবসম্প্রসারন টি নিয়ে আলোচনা করব।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থের এই কথাগুলো আমাদের সমাজের এক চিরন্তন ও গভীর সত্যকে প্রতিফলিত করে। আমরা সচরাচর মনে করি যে ব্যক্তি অন্যায় করছে, কেবল সেই দোষী। কিন্তু কবিগুরু এখানে আমাদের বিবেকের কাছে একটি কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি বলছেন, অন্যায়কারী যেমন অপরাধী, যে ব্যক্তি মুখ বুজে সেই অন্যায় সহ্য করছে বা প্রতিবাদ না করে সয়ে যাচ্ছে, সেও সমানভাবে অপরাধী। স্রষ্টার ঘৃণা বা প্রকৃতির বিচার যেন এই দুই ধরনের মানুষকেই খড়ের মতো পুড়িয়ে ছাই করে দেয়—এটাই ছিল কবির প্রার্থনা।
এই পঙক্তিটির মূল সুর হলো নৈতিক দৃঢ়তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা। একটি সমাজে যখন কোনো অন্যায় বা অবিচার ঘটে, তখন যারা সেই অন্যায়ের শিকার হয় অথবা যারা সেই অন্যায়ের সাক্ষী থাকে, তারা যদি ভয়ে বা স্বার্থের কারণে চুপ থাকে, তবে সেই নীরবতা অন্যায়কারীকে আরও বেশি সাহসী করে তোলে। কবিগুরু বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রতিবাদহীনতা আসলে অন্যায়েরই জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। আপনি যখন চোখের সামনে কোনো দুর্নীতি বা মানুষের ওপর জুলুম হতে দেখছেন এবং নিজের নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তখন পরোক্ষভাবে আপনি সেই অপরাধেরই অংশীদার হয়ে উঠছেন।
ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি, পৃথিবীর বড় বড় ধ্বংসযজ্ঞ বা বিপর্যয়গুলো কেবল খারাপ মানুষের আস্ফালনের জন্য ঘটেনি, বরং ঘটেছিল তথাকথিত ভালো মানুষের নীরবতার কারণে। যখন কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত আওয়াজ ওঠে না, তখন সেই সমাজ নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথ আমাদের এই কাপুরুষতা এবং উদাসীনতা ঝেড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রতিটি মানুষের পরম ধর্ম। এই প্রতিবাদ কেবল শোষিতের জন্য নয়, বরং শোষকের মনেও ভীতি সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন যাতে সে আর নতুন করে কোনো পাপ করতে না পারে।
বর্তমান আধুনিক যুগেও রবীন্দ্রনাথের এই দর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা আমাদের পরিচিত আঙিনায় যখনই আমরা দেখি কোনো অবিচার হচ্ছে, তখন আমাদের উচিত সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা মানে নিজের মনুষ্যত্বকে বিসর্জন দেওয়া। যদি আমরা আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াই, তবে কাল সেই অন্যায়ের শিকার হয়তো আমরা নিজেরাই হবো। কবির ভাষায়, যে ব্যক্তি অন্যায়কে সহ্য করে নেয়, সে আসলে তার নিজ আত্মাকে অপমান করে। তাই অন্যায়ের প্রতিবাদ করা কোনো করুণা নয়, বরং এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
পরিশেষে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কালজয়ী বাণী আমাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সুন্দর একটি সমাজ গড়ার দায়িত্ব কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং আমাদের সবার। অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া এবং সবসময় ন্যায়ের পথে অবিচল থাকাই হোক আমাদের শপথ।
আশা করি আজকের এই আলোচনার মাধ্যমে আপনারা এই মহান দর্শনের গভীরতা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এই ভিডিওটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে এবং আপনারা যদি মনে করেন এর মাধ্যমে নতুন কিছু জানতে পেরেছেন, তবে বিদ্যাঘর ডটকম চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। ভিডিওটিতে একটি লাইক দিন এবং আপনাদের মূল্যবান মতামত কমেন্ট বক্সে লিখে আমাদের জানান। ভিডিওটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করুন। আজ এ পর্যন্তই, দেখা হবে পরবর্তী ভিডিওতে নতুন কোনো বিষয় নিয়ে। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।
PDF ডাউনলোড করুন
পিডিএফ ডাউনলোড করতে অবশ্যই বিদ্যাঘর ডটকম ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে হবে।