স্বাধীনতা দিবসের রচনা – স্বাধীনতা দিবস
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, ২৬শে মার্চ, বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং বীরত্বের এক মহাকাব্যিক উপাখ্যান। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি সেই সব বীর শহীদদের, যাদের আত্মদানের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এটি কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রতীক।
ভূমিকা
স্বাধীনতা একটি জাতির আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রতীক। পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে মুক্তির সূর্যকে বরণ করে নেওয়ার দিনটিই হলো স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশের জন্য ২৬শে মার্চ এমনই এক অবিস্মরণীয় দিন, যেদিন বাঙালি জাতি পরাধীনতার জিঞ্জির ভেঙে নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল। এটি কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং বীরত্বের এক মহাকাব্যিক উপাখ্যান। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি সেই সব বীর শহীদদের, যাদের আত্মদানের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার পটভূমি: দীর্ঘ পথ পরিক্রমা
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও দেশভাগ
প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে ১৯৪৭ সালে। ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভক্তির ফলে জন্ম হয় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের—ভারত ও পাকিস্তান। ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন পূর্ব বাংলা, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির আবাসভূমি ছিল, পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে 'পূর্ব পাকিস্তান' নামে পরিচিতি লাভ করে। এই বিভাজনই ছিল বাঙালির নতুন করে পরাধীনতার ফাঁদে পড়ার সূচনা।
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক আচরণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, সামরিক বাহিনী—সর্বক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানকে বঞ্চিত করা হয়।
- ভাষাগত বৈষম্য: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করে, যা বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার ওপর চরম আঘাত ছিল। এর প্রতিবাদে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম সোপান তৈরি করে।
- অর্থনৈতিক বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ ও রাজস্ব পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যের প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শন করা হয়। ফলে পূর্ব পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক বৈষম্য: কেন্দ্রীয় সরকারে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অপ্রতুল। গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচারী শাসন জারি করা হয় এবং বাঙালিদের ন্যায্য রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।
- সাংস্কৃতিক বৈষম্য: পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করে, যা বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বকীয়তাকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
স্বাধিকারের সংগ্রাম: ধাপে ধাপে স্বাধীনতা
ভাষা আন্দোলনের পর থেকেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের গতি তীব্র হয়।
- যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন (১৯৫৪): এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় বাঙালির ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রমাণ দেয়।
- ছয় দফা আন্দোলন (১৯৬৬): বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ঐতিহাসিক ছয় দফা ছিল বাঙালির মুক্তি সনদ। এটি বাঙালির স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকারের দাবিকে চূড়ান্ত রূপ দেয়।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (১৯৬৮): বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিত্রিত করে এই মামলা দায়ের করা হয়, যা বাঙালির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯): আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রতিবাদে এবং ছয় দফার সমর্থনে ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান ঘটে। এই গণঅভ্যুত্থানের ফলেই বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন এবং 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।
- সত্তরের নির্বাচন (১৯৭০): পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এই বিজয় ছিল বাঙালির স্বাধিকারের প্রতি গণরায়। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়।
- অসহযোগ আন্দোলন (১৯৭১): নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেওয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন। এই আন্দোলন কার্যত পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করে তোলে। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান, যেখানে তিনি বলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
২৫শে মার্চের কালরাত্রি ও স্বাধীনতার ঘোষণা
অপারেশন সার্চলাইট
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এক বর্বরোচিত ও সুপরিকল্পিত গণহত্যা শুরু করে। 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে পরিচিত এই অভিযানে ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালির ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়। এই রাতে অসংখ্য বাঙালি প্রাণ হারায় এবং শুরু হয় এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা
২৫শে মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতারের পূর্ব মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে পাঠানো তাঁর এই ঘোষণা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘোষণায় তিনি বলেন: “এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা যে যেখানেই থাকুন এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শেষ পর্যন্ত দখলদার বাহিনীর মোকাবিলা করুন। আপনাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে যতক্ষণ না একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হচ্ছে।” এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিনের স্বাধিকার আন্দোলন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এম. এ. হান্নান এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর পরই শুরু হয় বাঙালির মুক্তির জন্য ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধ ছিল অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ, সম্মানের যুদ্ধ।
- মুক্তি বাহিনীর গঠন ও কার্যক্রম: পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী। সামরিক ও বেসামরিক জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বাহিনীতে যোগ দেয়। বিভিন্ন সেক্টরে বিভক্ত হয়ে মুক্তিবাহিনী বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
- গণমানুষের অংশগ্রহণ: কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী—সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, কেউ সরাসরি যুদ্ধ করে, কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, তথ্য দিয়ে কিংবা সেবা শুশ্রূষা করে।
- আন্তর্জাতিক সমর্থন ও বিরোধিতা: মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও আশ্রয় দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন জানায়। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করে।
- ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগ: দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে প্রায় ৩০ লক্ষ বাঙালি শহীদ হন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল-শামস বাহিনী কর্তৃক প্রায় ২ লক্ষ মা-বোন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন। তাদের এই আত্মত্যাগ ও সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা।
- ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয়: ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মিত্র বাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিবাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। এই দিনই অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়, জন্ম হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।
স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য
২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গভীর তাৎপর্য বহন করে।
- আত্মত্যাগের মহিমা স্মরণ: এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় লাখো শহীদের আত্মদান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপরিসীম ত্যাগ এবং মা-বোনদের অবর্ণনীয় যাতনার কথা। এটি কৃতজ্ঞচিত্তে তাদের স্মরণ করার দিন।
- জাতীয় ঐক্য ও সংহতি: স্বাধীনতা দিবস জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। এই দিনে দল-মত নির্বিশেষে সমগ্র জাতি এক হয়ে স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ: স্বাধীনতা দিবস আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা—গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রকে নতুন করে ধারণ করার প্রেরণা যোগায়। এই চেতনাকে ধারণ করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেওয়ার দিন এটি।
- দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের বিকাশ: এই দিনটি তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলে এবং স্বাধীন মূল্যবোধ বিকাশে সহায়তা করে।
- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বার্তা: স্বাধীনতা দিবস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস, সংগ্রাম ও অর্জনের গল্প তুলে ধরে। এটি তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তোলে।
স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন
প্রতি বছর ২৬শে মার্চ জাতীয়ভাবে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করা হয়। এই দিনে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- জাতীয় কর্মসূচি: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
- আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: দিনব্যাপী বিভিন্ন আলোচনা সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হয়। সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বিশেষ ক্রোড়পত্র ও অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন: দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
- বিশেষ প্রার্থনা: মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত/শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
উপসংহার
স্বাধীনতা দিবস শুধু একটি ছুটির দিন নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, গৌরব ও আত্মত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল একটি দিন। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কত ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে, সকল অপশক্তিকে রুখে দিয়ে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণের মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। স্বাধীনতা দিবসের এই পবিত্র দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক, আমরা যেন স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করে একটি উন্নত ও প্রগতিশীল জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি।